দেশে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন, বিচার ও সংস্কারের মতো অর্পিত দায়িত্ব দ্রুতগতিতে বাস্তবায়ন এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। একইসঙ্গে সরকারকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাধাগ্রস্ত করা হলে জনসমর্থন নিয়েই ‘প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
শনিবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভা শেষে এক অনির্ধারিত বৈঠকে উপদেষ্টা পরিষদ এই অবস্থান জানায়। বৈঠক শেষে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, “নির্বাচন, বিচার ও সংস্কার—এই তিনটি দায়িত্ব বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্বৈরাচারের প্রত্যাবর্তন রোধ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য।”
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, “যদি পরাজিত কোনো গোষ্ঠী বা বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সরকারের দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়, তবে সেই পরিস্থিতির বিস্তারিত জনসমক্ষে উত্থাপন করে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।”
সরকারের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে ‘অযৌক্তিক দাবি’, ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মসূচি’ এবং ‘অধিকার বহির্ভূত বক্তব্য’ তুলে ধরা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে উপদেষ্টা পরিষদ।
বিবৃতিতে বলা হয়, “অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের জনসমর্থন ও প্রত্যাশাকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছে। তবে সরকারের স্বকীয়তা, সংস্কার উদ্যোগ, বিচার প্রক্রিয়া, নির্বাচন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে বারবার বাধা দেওয়া হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে।”
সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য শুনবে এবং প্রয়োজনীয় আলোচনার মাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিস্কার করবে বলেও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
উপদেষ্টা পরিষদের মতে, “শত বাধার মাঝেও অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষ থেকে অর্পিত দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট। তবে যদি পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে, জনগণের সঙ্গে সমন্বয় করে সরকার তার করণীয় ঠিক করবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিবৃতির মধ্য দিয়ে সরকার একটি কঠোর বার্তা দিল—যেখানে স্থিতিশীলতা ও দায়িত্ব পালনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে জনসমর্থনের ভিত্তিতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের পথও খোলা রাখা হয়েছে।







